মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd মে ২০১৭

এক নজরে স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (STEP)

 

দক্ষ জনশক্তি ব্যাতিত কোন ভাবেই যে দেশের উন্নতি সম্ভব নয় এই অনুধাবন থেকে ও দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কারিগরি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও নিরন্তন গ্রহন করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রানাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে “Skills and Training Enhancement Project (STEP)” শীর্ষক প্রকল্প। প্রাথমিক ছয় বছর মেয়াদি (জুলাই ২০১০ - জুন ২০১৬) প্রকল্প সফল ভাবে শেষ হওয়ায় এ প্রকল্প পরবর্তী তিন (৩) বছরের (জুলাই ২০১৬ - জুন ২০১৯) জন্য বাড়ানো হয়েছে। সফল এ প্রকল্পে যৌথভাবে অর্র্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্বব্যাংক ও কানাডা। কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার নিমিত্তে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ মোট ১৭৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তারমধ্যে প্রাথমিক ৮৪৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ আরো ৯৩৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করেছে।

STEP প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের নিকট কারিগরি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র ও বেকারত্ব দূর করা। প্রকল্পটির কতিপয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে:

 

ক) সরকারের দারিদ্র বিমোচন কৌশলের অংশ হিসেবে কারিগরি ও পেশাগত (ভোকেশনাল) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান ও প্রাসঙ্গিকতা বৃদ্ধি করা এবং আর্থিকভাবে অনগ্রসর পরিবারের শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা লাভের অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টি করা ;

খ) Industry Skills Council Ges National Skills Development Council প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় সহায়তা প্রদান এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সার্বিকভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শক্তিশালী করা;

গ) কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সংস্থা, যেমন - কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; এবং

(ঘ) প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো সৃষ্টি, যোগাযোগ কৌশল বাস্তবায়ন এবং পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম।

 

প্রকল্পের কম্পোনেন্টসমূহ: স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের চারটি কম্পোনেন্ট রয়েছে। কম্পোনেন্টসমূহের আওতাভুক্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির হালনাগাদ (ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত) তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

 

কম্পোনেন্ট ১ : কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষার গুণগত মান ও প্রাসঙ্গিকতা বৃদ্ধি।

সাব-কম্পোনেন্ট ১.১: ডিপ্লোমা পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে প্রায় দশ কোটি টাকা Implementation Grant প্রদান ও শিক্ষার্থীদেরকে মাসে ৮০০ টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা।

সাব-কম্পোনেন্ট ১.২ : স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান

 

কম্পোনেন্ট ১ এর অগ্রগতি:

  • বৃত্তি প্রদানের জন্য ১৬২টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (১১৭টি সরকারি, ৪৫টি বেসরকারি) নির্বাচিত করা হয়েছে;
  • বৃত্তির জন্য নির্বাচিত ১০০% শিক্ষার্থীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাই করা হয়েছে;
  • এ যাবৎ ১,৪৪,৬১৫ জন ডিপ্লোমা লেভেল শিক্ষার্থীকে মাসে ৮০০ টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে যা শিক্ষাবর্ষ ৪,২৩,৫০৬;
  • বৃত্তির জন্য আবেদনকারী সকল নারী-শিক্ষার্থী প্রতি মাসে বৃত্তি পাচ্ছেন।
  • ৪৫টি (৩৭টি সরকারি, ৮টি বেসরকারি) পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ তিন কোটি টাকা করে Implementation Grant  প্রদান করা হচ্ছে;
  • মানসম্পন্ন সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদানে সহায়তার জন্য ৬৪টি (৪৭টি সরকারি, ১৭টি বেসরকারি) স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ভর্তিকৃত প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর বিপরীতে টিউশন ফি, বৃত্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২১,৫০০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে;
  • ৯০,৮২৮ জন প্রশিক্ষণার্থী ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং প্রতিমাসে ৭০০ টাকা হারে বৃত্তি পেয়েছেন;
  • স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৮% পাশ করার ছয় মাসের মধ্যে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন;
  • ৫০টি সরকারি পলিটেকনিকে শূন্য পদের বিপরীতে ১২০০ জন চুক্তিভিত্তিক-শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ৮৮৫ জন বর্তমানে কর্মরত আছেন।
  • নির্বাচিত পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট ও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ৪,৩২১ জন অধ্যক্ষ/শিক্ষক/কর্মকর্তাকে দেশে ও ৬৯০ জনকে বিদেশে সাবজেকটিভ, প্যাডাগোজি, ফাউন্ডেশন, ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট, আর্থিক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে;
  • শিল্প-শ্রমিকদের দক্ষতা-প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য BGMEA এর সাথে স্বাক্ষরিত গড়ট এর আওতায় অদ্যাবধি ৪,২৬০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন - যার মধ্যে ৩,৩৩১ জন তথা ৮৪.৭৪% চাকুরি লাভ করেছেন।
  • উল্লিখিত কার্যক্রমে মাধ্যমে নির্বাচিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ভর্তির হার ৩২% বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার এবং তাঁদের পাশের হারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

 

কম্পোনেন্ট ২ :  পাইলটিং ইন Technical and Vocational Education and Training (TVET)

সাব-কম্পোনেন্ট ২.১ : এ কম্পোনেন্টের আওতায় Industry Skills Council (ISC)  গঠনে সহায়তা প্রদান এবং National Skills Development Council (NSDC)-কে কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান।

সাব-কম্পোনেন্ট ২.২ : SSC (Vocational) কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা।

সাব-কম্পোনেন্ট ২.৩ :  Recognition of Prior Learning বা RPL সার্টিফিকেট প্রদান। 

 

 

কম্পোনেন্ট ২ এর অগ্রগতি:

  • এনএসডিসি’র সাথে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ঝববফ ভরহধহপরহম ও পরিচালন ব্যয় প্রদান করা হয়েছে এবং এনএসডিসি ও আইএসসি’তে কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে;
  • এসএসসি (ভোকেশনাল)-এর বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে পাইলটিং-এর জন্য ২০টি প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ্যাপ্রেন্টিসশিপ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে;
  • RPL কেন্দ্র হিসেবে ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এযাবৎ ৮টি বিষয় বা অকুপেশনে মোট ১৪,৯৭১ জন পরীক্ষায় অবতীর্ন হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১১,৫৩৬ জন প্রার্থীকে এই সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।

 

কম্পোনেন্ট ৩ :  Institutional Capacity Building

কারিগরি শিক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যেমন - কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিসহ চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা। 

 

কম্পোনেন্ট ৩ এর অগ্রগতি:

  • ডিটিই, বিটিইবি, বিএমইটি ও পিএমইউ-এর কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে সাবজেকটিভ, প্যাডাগোজি, ফাউন্ডেশন, ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট, আর্থিক, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে;
  • কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এইচআরএমআইএস শক্তিশালী করা হয়েছে;
  • বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধন পদ্ধতির ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে;
  • বিটিইবি’তে এমএন্ডই ও আরপিএল ইউনিট স্থাপিত হয়েছে। টিচার ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং সিলেবাস ও কারিকুলাম আধুনিকিকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
  • জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইমিগ্রেশন ডাটাবেজ এর আধুনিকায়নের কাজ চলছে;
  • ডিটিই ভবনের ঊর্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিএমইটি ভবনের ঊর্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

 

কম্পোনেন্ট ৪ : Project Management, Communication and Monitoring & Evaluation

সাব-কম্পোনেন্ট ৪.১ : প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো স্থাপন এবং যোগাযোগ কৌশল বাস্তবায়ন।

সাব-কম্পোনেন্ট ৪.২ : প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও ফলাফল পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন।

 

কম্পোনেন্ট ৪ এর অগ্রগতি:

  • পিআইইউ স্থাপিত হয়েছে। ৩৮টি পদের সবকটিতে কর্মকর্তাসহ ১০ জন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে;
  • কমিউনিকেশন ও মোবিলাইজেশন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং বাস্তবায়িত হচ্ছে;
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শতাধিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার, বিল-বোর্ড স্থাপন, পোষ্টার-লিফটেল বিতরণ, ডকুমেন্টারি নির্মাণ, টিভি টকশো আয়োজন, রেডিও প্রোগ্রাম সম্প্রচার, গান-নাটক পরিবেশন ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেইসাথে আয়োজন করা হয়েছে স্কিলস কম্পিটিশন ও জব ফেয়ার ইত্যাদি।
  • পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা সেল গঠন করা হয়েছে;
  • আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একাউন্টিং সফটওয়্যার প্রস্তুত ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে;
  • নিয়মিত মনিটরিং ও ইভালুয়েশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

উপসংহার : স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট সরকারের দারিদ্র ও বেকারত্বমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ দক্ষ এক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য পূরনের উদ্দেশ্যে দৃপ্ত প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, ভর্তি ও পাসের হার বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকলে, আশা করা যায়, ২০২০ সালের মধ্যে শতকরা ২০ জন শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আসবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করার রূপকল্প অর্জন সহজতর হবে।  

 

কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ

বেকারত্বমুক্ত সমৃদ্ধ জীবন”


Share with :
Facebook Facebook